লন্ডন বাংলাদেশ থেকে যৌথ প্রকাশনা

১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটে উদ্বেগ ,মধ্যপ্রাচ্যে যু*দ্ধ

LONDONBANGLA
প্রকাশিত ০২ মার্চ, সোমবার, ২০২৬ ২২:৪২:৪৩
সিলেটে উদ্বেগ ,মধ্যপ্রাচ্যে যু*দ্ধ

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার শানু (৩৮) থাকে মধ্যপ্রাচ্যে আবুধাবি। প্রায় দেড় যুগ ধরে সেখানে কাজ করছেন। এয়ারপোর্টের আশপাশ এলাকায় তার আবাস। সঙ্গে আরও অনেক সিলেটী।
গত কয়েকদিন থেকে শানুসহ এইসব প্রবাসী সিলেটীর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরাজ করছে অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণা, উদ্বেগ উৎকন্ঠা। আবুধাবী বিমানবন্দর ইরানী মিশাইলের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত। হামলা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যান্য শহরে। ইতিমধ্যে বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখার এক প্রবাসীর মৃত্যুও হয়েছে।
এ অবস্থায় স্বস্তিতে নেই কোনো মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী পরিবারে। এমনকি তাদের স্বজনদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবসময় সংশ্লিষ্ট প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টায় মরিয়া। অনেকেই পর করছেন ঘুমহীন রাত।
একই অবস্থা সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, কাতারসহ উপসাগরীয় প্রায় সবদেশে থাকা প্রবাসী সিলেটীদের পরিবারে।

মার্কিন-ইসরাইলী হামলায় আয়াতুল্লাহ খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নিহত হওয়ার পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী তারা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে লক্ষবস্তুতে পরিণত করেছে। আর এসব দেশের মূল অধিবাসীদের কিছু না হলেও প্রবাসী সিলেটীরা মরছেন, আহত হচ্ছেন। স্বাভাবিক কারণেই নিদ্রাহীন তাদের পরিবারের সদস্যরা।

শানু জানিয়েছন. আবুধাবী এয়ারপোর্টে হামলা হলেও তারা নিরাপদে আছেন। যদিও তাদের অবস্থান এয়ারপোর্টের কাছাকাছি। তার অপেক্ষায় আছেন সরকার যদি তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় বা সরিয়ে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেয় তাহলে তারা তাই করবেন। তারা দেশেবাসীর দোয়া চেয়েছেন।

সৌদি আরবে রিয়াদে থাকেন নগরীর জেল রোড এলাকার জাহেদ আহমদ। জানালেন, ইরানি মিশাইলের আঘাত আছড়ে পড়ছে রিয়াদসহ আরও কয়েকটা শহরে। তারা খুবই আতঙ্কে আছেন। তিনিও দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন।

এদিকে সিলেটে থাকা পরিবারের সদস্যদের আহ্বান, প্রবাসীরা যেনো এই সংকটকালে নিরাপদে নিজের ঘরে বা কোনো নিরাপদ স্থানে অবস্থান করেন। মিশাইল দেখার জন্য দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করার কোনো মানে হয়না। এতে তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি দেশে অবস্থানরত স্বজনদেরও ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।
এক্ষেত্রে স্বস্তি নামতে পারে তাদের সতর্কতা, নিজের কর্মস্থল যে দেশে ওই দেশের সরকারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা মান্য করা ও সুশৃঙ্খল জীবন যাপনে।